Ticker

6/recent/ticker-posts

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় বরবটির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা জেনে নিন

বাংলাদেশ কৃষি-প্রধান দেশ তাই ফলমূল, শাক-সবজি সবকিছুরই ফলন এখানে হয়। মৌসুম ভেদেও চাষাবাদ হয়। নানান সবজির মধ্যে বরবটি সবজি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। বরবটির সবজি বাড়ির ছোট-বড় সকলে খেতে পছন্দ করেন। রান্না করে খাওয়ার পাশাপাশি এটি কাঁচাও খাওয়া যায়। তবে বরবটি সাধারণত ভর্তা, ভাজি, ঝোল রান্না করে খাওয়া হয় পুষ্টিগুণে ভরপুর বরবটির রয়েছে নানান উপকারিতা। বরবটিতে রয়েছে প্রোটিন, শর্করা, খনিজ পদার্থ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি- ২, ভিটামিন সি, খাদ্য-শক্তি প্রভৃতি। 
 


 

 

বরবটির পুষ্টিগুণ: খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম বরবটিতে রয়েছে জলীয় অংশ ৮৭.৫ গ্রাম, আমিষ ৩.০, শর্করা ৯.০, মোট খনিজ পদার্থ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৩ মিলিগ্রাম, আয়রন ৫.৯, ভিটামিন বি-১ ০.১৪, ভিটামিন বি- ২ ০.৩০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি খুব অল্প, খাদ্যশক্তি ১৮ ক্যালরি। বরবটির জাত ও স্থানের পরিবর্তনের সঙ্গে পুষ্টিমানের পরিবর্তন হতে পারে।
 
বরবটির বীজ বপনের উপযুক্ত সময়: হলো ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাস এবং শীতকালে বরবটির বীজ বোনা উচিত নয়। বরবটি বিভিন্ন জাতের হয়ে থাকে। যেমন- বিএইউ বরবটি-১ , কেগর নাইটি, চীনা বরবটি, ফেলন, লালবেনী, ঘৃত কুমারী, গ্রিন লং, তকি, বনলতা ইত্যাদি। তবে কেগরনাটকী নামে একটি উন্নত প্রজাতির বরবটি অনেক দিন পর্যন্ত চাষ হয়ে আসছে। কেগরনাটকী প্রজাতিটি পৌষ এবং মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। বরবটির উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মধ্যে কেগরনাটকী ও লাল বেণী প্রজাতির ফলন সবচেয়ে বেশি।
প্রোটিন-সমৃদ্ধ বরবটি বসতবাড়িতেও চাষ করা যায় এবং ভাজা-সেদ্ধ-তরকারি সবকিছুতেই সমান উপযোগী। পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এটি সাধারণত সেদ্ধ, ভাজা বা ঝোল রান্না করে খাওয়া হয়। চলুন জেনে নেই সুস্বাস্থ্যে বরবটির গুনাগুণ: 
 

উপকারিতা:

আয়রনের ঘাটতি মেটায়: বরবটিতেও রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ আয়রন। যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে তারা বরবটি খেলে খুব তাড়াতাড়ি এই ঘাটতি পূরণ হবে। এছাড়া বরবটিতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রন পরিশোষণে ভূমিকা রাখে।
হার্টের সুরক্ষা দেয়: বরবটিতে থাকা ডায়েটারি ফাইবার এলডিএল (ক্ষতিকর) কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে হার্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এছাড়াও এটি উচ্চ রক্তচাপ, বুক জ্বালাপোড়া প্রভৃতি সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখে।
 
অস্থিসন্ধির ব্যথা কমায়: শরীরের ভিটামিন কে-এর চাহিদা মেটাতে পারে বরবটি। এতে যে ভিটামিন কে রয়েছে তা অস্টিও আর্থারাইটিস সমস্যা থেকে অস্থিসন্ধির উপকারে আসে। আর রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে- এর ভূমিকা অপরিসীম।
 
চর্বি কমাতে সাহায্য করে: কম ক্যালরিযুক্ত এবং অধিক ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য হলো এই বরবটি। যার ফলে এটি চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া বরবটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীর থেকে দূষিত যৌগগুলোকে বের করে দেয়। ফলে সহজে শরীরে চর্বি জমতে পারে না।
 
হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে: বরবটিতে থাকা সিলিকন হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে। বরবটির বীজে থাকা ক্যালিসিয়াম হাড় শক্ত করতে সাহায্য করে। নারীদের স্বাস্থ্য উপকারেও ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
 
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: বরবটিতে ফ্ল্যাভোনয়েড উপাদান ক্যাম্পফেরল ও কুয়ারসেটিন থাকে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। আর এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই দুই উপাদান ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধে চমৎকার কাজ করে।

Post a Comment

0 Comments